বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬ | সকাল ৭:১১

অফিসের ঠিকানা: ১ম তলা, আব্দুল আলী প্লাজা, প্রগতি সরণি সড়ক, যমুনা ফিউচার পার্কের আউটগেটের বিপরীতে, ঢাকা-১২২৯।

অফিসের ঠিকানা: ১ম তলা, আব্দুল আলী প্লাজা, প্রগতি সরণি সড়ক, যমুনা ফিউচার পার্কের আউটগেটের বিপরীতে, ঢাকা-১২২৯।

বগুড়ায় সড়কের জায়গা দখল করে বিএনপির অফিস নির্মাণের অভিযোগ।

বগুড়ায় সড়ক ও জনপথের (সওজ) জায়গা দখল করে আবারও বিএনপির অফিস নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। মহানগরের তিনমাথা রেলগেটের পাশে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর সংলগ্ন স্থানে টিনশেড ঘর তৈরি করে জায়গাটি দখল করা হয়েছে। ঘরের সামনে মহানগর ১৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, বগুড়া-রংপুর মহাসড়ক ঘেঁষে সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রায় ৫ শতাংশ জমিতে সবুজ রঙের টিনশেড হাফওয়ালের ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। ঘরের সামনে মহানগর ১৫নং ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয় লেখা সাইনবোর্ড ঝুলছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বগুড়া সিটি করপোরেশন ঘোষণার আগে সওজের এই জায়গা সদর উপজেলার ফাঁপোর ইউনিয়ন বিএনপি দখলে নিয়ে অফিস নির্মাণ করেছিল। তারা সেখানে ২০০৩ সালে টিনশেড ঘর নির্মাণ করে। এ নিয়ে কথা উঠলে ২০০৫ সালে তৎকালীন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমানের নির্দেশে সেটি ভেঙে দেওয়া হয়। এর পর আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে কয়েক দফা ঘর নির্মাণ করা হলেও সওজ ভেঙে দেয়। ২০২২ সালে আবারও সেখানে ঘর নির্মাণ করা হলে সওজ গুঁড়িয়ে দিয়ে সড়ক সম্প্রসারণের কাজ করে। এভাবে অন্তত ছয়বার কার্যালয়টি ভেঙে ও গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ফাঁপোর ইউনিয়ন বিএনপি আবারও দখল করে তাদের অফিস ঘর নির্মাণ করে। চলতি বছরের ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়াকে সিটি করপোরেশন ঘোষণা দেন। ওই জায়গাটি সিটি করপোরেশনভুক্ত হলে মহানগর বিএনপির ১৫নং কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করতে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয় সেখানে।

জানতে চাইলে ফাঁপোর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন বলেন, সওজের পরিত্যক্ত জায়গায় ইউনিয়ন বিএনপির অফিস ছিল। ২০০৫ সালে তারেক রহমানের নির্দেশে সেটি ভেঙে দেওয়া হলে পরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় একাধিবার অফিস নির্মাণের চেষ্টা করেও পারা যায়নি। চব্বিশের ৫ আগস্টের পর সেখানে পুনরায় অফিস করলেও সিটি করপোরেশনভুক্ত হওয়ায় এখন জায়গাটিকে ১৫নং ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয় করা হয়েছে।

১৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক মিলন বলেন, ওই জায়গা থেকে অফিস সরিয়ে নেওয়া হবে।

১৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান বলেন, সেখানে বিভিন্ন সময়ে ছয়বার অফিস করা হলেও প্রতিবারই ভেঙে দেওয়া হয়েছে। অফিসটি সওজের জায়গায় পড়েছে তা অস্বীকার করছি না। আমাদের অফিসের কারণে কারও ক্ষতি হলে অফিস আবারও সরিয়ে নেওয়া হবে।

বগুড়া মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। সরকারি জায়গায় অফিস নির্মাণ করা যাবে না, এটা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ আছে। সেখানে যারা অফিস করেছে, তাদের সরিয়ে নিতে বলব।

জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও মহানগর বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক চৌধুরী হিরু বলেন, সওজের জায়গায় অফিস করার বিষয় আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে তাদের অফিস সরিয়ে জায়গামুক্ত করতে নির্দেশ দিচ্ছি।

বগুড়া সওজ ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল হক বলেন, সওজের জায়গায় কেউ কোনো স্থাপনা করলে তা উচ্ছেদ করা হবে। আমাদের লোক গিয়ে সরেজমিন দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শাহনেওয়াজ শাওন বগুড়া

অনুসরণ করুন

অফিসের ঠিকানা: ১ম তলা, আব্দুল আলী প্লাজা, প্রগতি সরণি সড়ক, যমুনা ফিউচার পার্কের আউটগেটের বিপরীতে, ঢাকা-১২২৯।