শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | সকাল ১০:১৬

অফিসের ঠিকানা: ১ম তলা, আব্দুল আলী প্লাজা, প্রগতি সরণি সড়ক, যমুনা ফিউচার পার্কের আউটগেটের বিপরীতে, ঢাকা-১২২৯।

অফিসের ঠিকানা: ১ম তলা, আব্দুল আলী প্লাজা, প্রগতি সরণি সড়ক, যমুনা ফিউচার পার্কের আউটগেটের বিপরীতে, ঢাকা-১২২৯।

সর্বশেষ খবর

কর কমিশনার মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম এবং নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তা ও বর্তমান কর কমিশনার মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম এবং নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘ সরকারি চাকরিজীবনে কর প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকালে প্রভাব খাটিয়ে এবং অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে তিনি শত শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২২তম বিসিএস (কর) ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন ফখরুল ইসলাম। পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন কর অঞ্চলে সহকারী কর কমিশনার, উপ-কর কমিশনার, যুগ্ম কর কমিশনার ও অতিরিক্ত কর কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একসময় আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেওয়া এ কর্মকর্তা ক্ষমতার পালাবদলের পর বিএনপিপন্থী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তিনি খুলনা কর আপিলাত ট্রাইব্যুনালের সদস্য (কর কমিশনার) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। নিজেকে বিএনপিপন্থী পরিচয় দিয়ে কমিশনার হিসেবে পদোন্নতিও বাগিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

অভিযোগ রয়েছে, কর প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকালে বিপুল অঙ্কের আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে কর ফাইল নিষ্পত্তি, করদাতাদের বিশেষ সুবিধা প্রদান এবং হয়রানি থেকে অব্যাহতির সুযোগ করে দিয়ে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজধানীর মিরপুরের সেকশন-১২, ব্লক-বি, ২ নম্বর সড়কে অবস্থিত ‘ডিসি সাহেবের বাড়ি’ নামে পরিচিত এলাকায় মূল্যবান জমির ওপর গড়ে ওঠা একাধিক বহুতল ভবনের মালিকানা তার পরিবারের নামে রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এর মধ্যে হোল্ডিং নম্বর-২৫-এ অবস্থিত ‘শান্তির নীড়’ নামের ভবনে দুটি অভিজাত ফ্ল্যাট রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, এসব ফ্ল্যাটের একটিতে তিনি বর্তমানে বসবাস করছেন।

এ ছাড়া একই এলাকার হোল্ডিং নম্বর-১৫-এ অবস্থিত একটি পাঁচতলা ভবনেও একাধিক ফ্ল্যাটের মালিকানা তার অথবা তার পরিবারের সদস্যদের রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মিরপুর-১২ নম্বর সি ব্লকের ৯ ও ১০ নম্বর রোডে তার পরিবারের সদস্যদের নামে আরও দুটি বাড়ি রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, রাজধানীর ধানমন্ডি, গুলশান, বনানী ও মিরপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তার পরিবারের সদস্যদের নামে বাড়ি, ফ্ল্যাট, দোকান ও অন্যান্য স্থাবর সম্পদ রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে গুলশান ডিসিসি মার্কেটে পরিবারের সদস্যদের নামে একটি বিশাল লাগেজের দোকান রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, এসব সম্পদের প্রকৃত মালিকানা আড়াল করতে আত্মীয়-স্বজন, ভাই এবং শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের নাম ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজধানী ঢাকা ও তার নিজ জেলা লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন এলাকায় জমি, প্লট, বাড়ি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের তথ্যও পাওয়া গেছে বলে তারা দাবি করেন।

এ ছাড়া তার এবং পরিবারের সদস্যদের নামে একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি থাকার অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার বৈধ আয়ের সঙ্গে এসব সম্পদের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাদের মতে, দীর্ঘদিন কর প্রশাসনে দায়িত্ব পালনকে পুঁজি করেই তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো স্বাধীন বা দৃশ্যমান সরকারি তদন্তের তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা-সমালোচনা চললেও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কর কমিশনার মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি কল রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রশ্ন পাঠানো হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সরকারি কর্মকর্তাদের আয়-ব্যয় ও সম্পদের হিসাব যাচাইয়ের জন্য আইন অনুযায়ী দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করতে পারে। তবে অভিযোগ ওঠার পরও কার্যকর তদন্ত দৃশ্যমান না হওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দুর্নীতি দমন আইন এবং সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।

অনুসরণ করুন

অফিসের ঠিকানা: ১ম তলা, আব্দুল আলী প্লাজা, প্রগতি সরণি সড়ক, যমুনা ফিউচার পার্কের আউটগেটের বিপরীতে, ঢাকা-১২২৯।