বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬ | সকাল ৮:৫৬

অফিসের ঠিকানা: ১ম তলা, আব্দুল আলী প্লাজা, প্রগতি সরণি সড়ক, যমুনা ফিউচার পার্কের আউটগেটের বিপরীতে, ঢাকা-১২২৯।

অফিসের ঠিকানা: ১ম তলা, আব্দুল আলী প্লাজা, প্রগতি সরণি সড়ক, যমুনা ফিউচার পার্কের আউটগেটের বিপরীতে, ঢাকা-১২২৯।

বাউফলে মৎস্যজীবি দলের সভাপতি কর্তৃক প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিতের অভিযোগ, মোবাইল ভাঙচুর।

স্টাফ রিপোর্টার

পটুয়াখালীর বাউফলে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এডহক ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত ও তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রোববার (৫ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার বিলবিলাস আব্দুর রশীদ সরদার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, বিদ্যালয়ের এডহক ম্যানেজিং কমিটি অনুমোদিত হলে তা প্রকাশের পর বাউফল উপজেলা জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের সভাপতি মোশারেফ হোসেন খান লিটনের নেতৃত্বে ৪/৫ জন ব্যক্তি ক্লাস চলাকালে প্রধান শিক্ষক খায়রুল আলমের কক্ষে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা এডহক কমিটির প্রস্তাব পাঠানোর বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে কৈফিয়ত চান। একপর্যায়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, লাঞ্ছিত এবং জীবননাশের হুমকি দেয়। একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষকের ব্যবহৃত অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনটি মাটিতে আছড়ে ভেঙে ফেলা হয়। পরে অভিযুক্তরা দ্রুত বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। এ সময়ে মোশারেফ হোসেন লিটনের সঙ্গে ছিলেন বাউফল সদর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মহিবুল্লাহ ও বাউফল সদর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি মঞ্জুর ই আলম। পুরো ঘটনার কিছু অংশ বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে বলে বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার পর প্রধান শিক্ষক মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, হামলাকারীরা প্রধান শিক্ষককে গালিগালাজ করার পাশাপাশি ভয়ভীতি ও জীবননাশের হুমকি দিয়েছেন। তাঁর মোবাইল ফোনও ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে তাঁরা দাবি করেন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এলাকায় বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তারা গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকসেবন করে ও চাঁদাবাজের সাথে জড়িত বলে অভিযোগ আছে।এদিকে ঘটনার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মোশারেফ হোসেন খান লিটনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। বাউফল ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মহিবুল্লাহ এবং বাউফল ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক মঞ্জুর ই আলমের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা ফোন রিসিভ করেননি।
পটুয়াখালী জেলা জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের সভাপতি শফিকুল ইসলাম শাহীন বলেন, ‘দলের শৃঙ্খলাবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে কেউ জড়িত থাকলে এবং এ ব্যাপারে আমাদের অভিযোগ করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ প্রধান শিক্ষক খায়রুল আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। যেভাবে এডহক কমিটি গঠিত হয়:
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ৬ সেপ্টেম্বর প্রধান শিক্ষক খায়রুল আলম বিলবিলাস আব্দুর রশীদ সরদার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি গঠনের একটি খসড়া প্রস্তাব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে পাঠান। পরদিন ৭ সেপ্টেম্বর ইউএনও জেলা প্রশাসকের কাছে ওই প্রস্তাব পাঠান। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্মারক নম্বর ০৫.১০.৭৮৫৪.০০০.০৪.০১২.২৬-১১০৬, তারিখ ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
পরে জেলা প্রশাসক ২২ সেপ্টেম্বর বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে প্রস্তাবটি পাঠান। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৪ অক্টোবর বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান চার সদস্যের এডহক ম্যানেজিং কমিটি অনুমোদন দেন।
অনুমোদিত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে বোর্ড মনোনীত মো: মাহফুজুর রহমান, শিক্ষক সদস্য হিসেবে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মনোনীত মো:বদরুল ইসলাম, অভিভাবক সদস্য হিসেবে জেলা প্রশাসক/উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীত মুহাম্মদ আবুল হুসাইন এবং সদস্য সচিব হিসেবে পদাধিকারবলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খায়রুল আলম রয়েছেন।
এডহক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করেই প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

অনুসরণ করুন

অফিসের ঠিকানা: ১ম তলা, আব্দুল আলী প্লাজা, প্রগতি সরণি সড়ক, যমুনা ফিউচার পার্কের আউটগেটের বিপরীতে, ঢাকা-১২২৯।