বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬ | রাত ৮:২৪

অফিসের ঠিকানা: ১ম তলা, আব্দুল আলী প্লাজা, প্রগতি সরণি সড়ক, যমুনা ফিউচার পার্কের আউটগেটের বিপরীতে, ঢাকা-১২২৯।

অফিসের ঠিকানা: ১ম তলা, আব্দুল আলী প্লাজা, প্রগতি সরণি সড়ক, যমুনা ফিউচার পার্কের আউটগেটের বিপরীতে, ঢাকা-১২২৯।

জমি দখলের অভিযোগে তাণ্ডব! রংপুরে শশী কান্তের বিরুদ্ধে হামলা-লুটপাটের অভিযোগ

জমি দখল করতে গিয়ে হামলা-লুটপাট, রংপুরে শশী কান্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ
জমি দখল, হামলা ও মিথ্যা মামলায় অতিষ্ঠ দেবেস-ধরিত্রী পরিবার
শহীদুল ইসলাম রংপুর

রংপুর সদর উপজেলার ১নং মমিনপুর ইউনিয়নে প্রতারক চক্রের হোতা, ভূমিদস্যু ও চিহ্নিত সন্ত্রাসী শশী কান্ত এর কবলে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে নিরীহ কৃষক দেবেস চন্দ্র রায়* ও ধরিত্রী রানী রায়* এর পরিবার। জমি জবরদখল, হামলা, নারী নির্যাতন ও মিথ্যা মামলা দিয়ে পরিবারটিকে ঘরছাড়া করার অভিযোগ উঠেছে শশী কান্ত ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী ধরিত্রী রানী রায় বাদী হয়ে হরিদেবপুর থানায় একটি এজাহার দাখিল করেছেন। এজাহারে বলা হয়, শশী কান্ত পিতা-মৃত সুরেন্দ্র নাথ, সাং- কুর্শা বলরামপুর দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে এলাকায় দালালি, প্রতারণা ও ভূমি দখলের সাথে জড়িত। তার জামাতা পরিতোষ মহন্ত একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজ।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০ বছর আগে শশী কান্ত তার প্রথম স্ত্রী যশোদা কে নির্মমভাবে হত্যা করেন। তার বাড়ি রংপুর শহরের বৈরাগীপাড়ায়। শশী কান্তের বর্তমানে ৩ জন স্ত্রী রয়েছে। চাকরি দেওয়ার কথা বলে সে রাজ কুমার, পিতা-দেবেন, সাং-কুর্শা বলরামপুর এর কাছ থেকে ৭ লক্ষ টাকা এবং শমসের, পিতা-হাকী কুর্শা বলরামপুরকে ভুয়া দলিল দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৭/০৮/২০২৬ ইং তারিখ দুপুর ১২টার দিকে শশী কান্ত, তার জামাতা পরিতোষ মহন্তসহ ৫০-৬০ জন ভাড়াটিয়া গুন্ডা নিয়ে কুর্শা বলরামপুর মৌজার সিএস ৩২৫২ দাগের ০.৫৪ একর জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে। এ সময় তারা জমির ধানের চারা উপড়ে ফেলে প্রায় ২৮০০ টাকার ক্ষতি সাধন করে এবং চারায় বিষ প্রয়োগ করে।

বাধা দিতে গেলে শশী কান্তের নির্দেশে আসামীরা লাঠি, রড, ছোরা ও কোদাল দিয়ে দেবেস চন্দ্র রায়, সুমুল রানী, বেলি রানী, শিমুল রানী ও প্রতিবেশী মোঃ মোর্শেদুল এর উপর হামলা চালায়।

হামলায় দেবেস চন্দ্র রায়ের ডান হাতের মধ্যমা আঙুল হাড়সহ কেটে ঝুলে যায় এবং মাথায় গভীর ক্ষত হয়। সুমুল রানীর মাথা ফেটে ও ডান পায়ের হাঁটু ভেঙে যায়। বেলি রানী ও মোর্শেদুলের মাথায় গুরুতর জখম হয়। এ সময় আসামী দীপা ধরিত্রী রানীর গলা থেকে ৬ আনা ওজনের ৬০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয় এবং ১-৫ নং আসামী নারীদের শ্লীলতাহানী করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

আহতদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দেবেস চন্দ্র রায় বর্তমানে নিউরো সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হামলার পর শশী কান্ত নিজে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে উল্টো দেবেস ও ধরিত্রী পরিবারের বিরুদ্ধে কোতয়ালী থানায় ১০ নম্বর মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার ১০ নং আসামী করা হয়েছে ১৭ বছর বয়সী এক নাবালককে, যে ২০২৬ সালে জানপুর মুন্সিরবাজার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসি পাস করেছে।

এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মালেক তদন্ত করছেন। অন্যদিকে ধরিত্রী রানীর মামলাটি তদন্ত করছেন এসআই হাফিজুর রহমান।

স্থানীয় এলাকাবাসী আব্দুল কাদের, সাবেক ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলাম* জানান, শশী কান্ত ৩০ বছর আগে প্রকৃত মালিক রমনী কান্ত এর কাছ থেকে দলিল ছিনতাই করে জমির মালিক সেজে গত ২০ বছর ধরে দেবেস-ধরিত্রী পরিবারকে হয়রানি করে আসছে।

থানা বিএনপির সভাপতি আমজাদ হোসেন ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক তামিম ইকবাল বলেন, “শশী কান্ত মিথ্যা মামলা দিয়ে পরিবারটিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। সে একজন মামলাবাজ ও ভূমিদস্যু। তাকে সামাজিকভাবে বয়কটের আহ্বান জানাই।

ভুক্তভোগী রনজিতা রানী বলেন, শী কান্তের জামাতা সন্ত্রাসী পরিতোষ প্রকাশ্যে আমার কলেজ পড়ুয়া মেয়েকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা চাই।
এ বিষয়ে হরিদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা জহুরুল হক বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন।

অনুসরণ করুন

অফিসের ঠিকানা: ১ম তলা, আব্দুল আলী প্লাজা, প্রগতি সরণি সড়ক, যমুনা ফিউচার পার্কের আউটগেটের বিপরীতে, ঢাকা-১২২৯।