রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | দুপুর ১:১২

অফিসের ঠিকানা: ১ম তলা, আব্দুল আলী প্লাজা, প্রগতি সরণি সড়ক, যমুনা ফিউচার পার্কের আউটগেটের বিপরীতে, ঢাকা-১২২৯।

অফিসের ঠিকানা: ১ম তলা, আব্দুল আলী প্লাজা, প্রগতি সরণি সড়ক, যমুনা ফিউচার পার্কের আউটগেটের বিপরীতে, ঢাকা-১২২৯।

সর্বশেষ খবর

মেসির গোলও বাঁচাতে পারল না মায়ামিকে, টরন্টোর কাছে ২-১ ব্যবধানে হার।

লিওনেল মেসির গোলও শেষ পর্যন্ত ইন্টার মিয়ামিকে রক্ষা করতে পারল না। ঘরের মাঠে টরন্টো এফসির কাছে ২-১ গোলে হেরে টানা পঞ্চম ম্যাচে জয়হীন থাকল মায়ামির দল। একের পর এক ম্যাচে রক্ষণভাগের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠলেও আক্রমণভাগে মেসি ও রদ্রিগো ডি পলদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে সুযোগ তৈরি করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাচ্ছে না ইন্টার মিয়ামি।

শনিবারের ম্যাচের শুরু থেকেই ঘরের মাঠে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে ইন্টার মিয়ামি। বল দখলে রেখে আক্রমণ সাজানোর পাশাপাশি মেসিকে সামনে রেখে টরন্টোর রক্ষণে চাপ তৈরি করতে থাকে স্বাগতিকরা। কিন্তু প্রথমার্ধে সেই চাপ থেকে বড় কোনো সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি তারা। টরন্টোর রক্ষণও বেশ সংগঠিত ছিল। ফলে প্রথম ৪৫ মিনিট গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হয়।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে ইন্টার মিয়ামিকে বড় ধাক্কা দেয় টরন্টো এফসি। ৫৯তম মিনিটে জশ সার্জেন্টের গোলে এগিয়ে যায় সফরকারীরা। গোল হজমের পর মায়ামি যখন সমতা ফেরানোর চেষ্টা করছে, ঠিক তখনই আবারও আঘাত হানে টরন্টো।

৬২তম মিনিটে ডেরিক এতিয়েন জুনিয়র গোল করে টরন্টোকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল হজম করায় ম্যাচে চাপে পড়ে যায় ইন্টার মিয়ামি। নিজেদের মাঠে খেলেও তখন ম্যাচে ফেরার জন্য কঠিন লড়াই করতে হচ্ছিল মেসিদের।

দুই গোল পিছিয়ে পড়ার পর ইন্টার মিয়ামির আক্রমণের ধার আরও বাড়ে। মেসি বারবার বল নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। মাঝমাঠ থেকে রদ্রিগো ডি পলও আক্রমণ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তবে টরন্টোর রক্ষণভাগের দৃঢ়তার কারণে সহজে সুযোগ পাচ্ছিল না স্বাগতিকরা।

অবশেষে ৮২তম মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। রদ্রিগো ডি পলের দুর্দান্ত একটি থ্রু বল থেকে গোল করে ব্যবধান ২-১ করেন লিওনেল মেসি। গোলের পর ম্যাচে নতুন করে প্রাণ ফিরে পায় ইন্টার মিয়ামি। সমতা ফেরানোর আশায় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টরন্টোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকে তারা।

ম্যাচের শেষদিকে মেসিদের আক্রমণ আরও তীব্র হয়। একের পর এক আক্রমণ চালালেও টরন্টোর রক্ষণ ভাঙতে পারেনি মায়ামি। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে টরন্টো এফসি। আর নিজেদের মাঠে হারের হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইন্টার মিয়ামি।

এই পরাজয়ের ফলে ইন্টার মিয়ামির সাম্প্রতিক সময়ের বাজে পারফরম্যান্স আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গত পাঁচ ম্যাচে তাদের হিসাব চার হার ও এক ড্র। এই সময়ে মন্টেরের কাছে ২-১ গোলে, লিওনের কাছে ৩-২ গোলে এবং ন্যাশভিলের কাছে ৪-১ গোলে হেরেছে তারা। এরপর ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করে মায়ামি। সেই ম্যাচের পর টরন্টোর কাছেও হারতে হলো তাদের।

অর্থাৎ টানা পাঁচ ম্যাচে জয়ের দেখা পায়নি মায়ামি। একটি দলের জন্য মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে এমন ফলাফল নিঃসন্দেহে উদ্বেগের। বিশেষ করে দলটির আক্রমণভাগে মেসির মতো বিশ্বমানের খেলোয়াড় থাকার পরও ধারাবাহিকভাবে জয় না পাওয়া সমর্থকদের জন্য হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে মায়ামির সবচেয়ে বড় সমস্যা এখন রক্ষণভাগ। গত পাঁচ ম্যাচে তারা প্রতি ম্যাচে গড়ে ২.৪ গোল করে হজম করেছে। অর্থাৎ প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামলাতে পারছে না দলটি। সামনে মেসি, ডি পলসহ আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা সুযোগ তৈরি করলেও রক্ষণে ভুলের কারণে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

টরন্টোর বিপক্ষে ম্যাচেও সেই একই চিত্র দেখা গেছে। দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে দুই গোল হজম করাই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে দেয়। পরে মেসি একটি গোল করে দলকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করলেও সময়ের স্বল্পতায় সমতা ফেরানো সম্ভব হয়নি।

মেসির গোলটি অবশ্য ব্যক্তিগতভাবে তার মানের আরেকটি উদাহরণ হয়ে থাকল। রদ্রিগো ডি পলের নিখুঁত থ্রু বল কাজে লাগিয়ে তিনি ব্যবধান কমান। কিন্তু ফুটবলে একজন খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য সব সময় দলকে জয় এনে দিতে পারে না। টরন্টোর বিপক্ষেও সেটিই প্রমাণিত হয়েছে।

ইন্টার মিয়ামির জন্য কিছুটা স্বস্তির বিষয় হলো, টানা পাঁচ ম্যাচ জয়হীন থাকার পরও তারা এমএলএসের ইস্টার্ন কনফারেন্সে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। ফলে এখনো মৌসুমের লড়াইয়ে তারা ভালো অবস্থানে আছে। তবে শীর্ষে থাকা ন্যাশভিলের সঙ্গে ব্যবধান বাড়ছে। একই সঙ্গে পেছনের দলগুলোও পয়েন্টের দিক থেকে কাছাকাছি চলে আসছে।

এ অবস্থায় সামনে প্রতিটি ম্যাচই ইন্টার মিয়ামির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। শীর্ষস্থান ধরে রাখার পাশাপাশি প্লে-অফের আগে নিজেদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে হলে দ্রুত জয়ের ধারায় ফিরতে হবে তাদের। বিশেষ করে রক্ষণভাগের ভুল কমানো এখন সবচেয়ে জরুরি।

মেসির ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ খুব বেশি নেই। তিনি গোল করছেন, আক্রমণ তৈরি করছেন এবং সতীর্থদের সুযোগ করে দিচ্ছেন। কিন্তু দলীয় ফুটবলে শুধু একজন তারকার ওপর নির্ভর করে দীর্ঘ সময় সফল থাকা সম্ভব নয়। ডিফেন্স, মিডফিল্ড এবং আক্রমণ—তিন বিভাগেই সমন্বয় বাড়াতে হবে মায়ামিকে।

রদ্রিগো ডি পলের পারফরম্যান্সও এই ম্যাচে ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা যেতে পারে। তার দুর্দান্ত থ্রু বল থেকেই মেসি গোল পেয়েছেন। মেসি-ডি পলের বোঝাপড়া আরও কার্যকর হলে মায়ামির আক্রমণভাগ থেকে সামনে আরও গোল আসতে পারে। কিন্তু সেই গোলের সঙ্গে রক্ষণভাগকে শক্তিশালী করা না গেলে সমস্যার সমাধান হবে না।

টরন্টোর কাছে এই হার তাই ইন্টার মিয়ামির জন্য শুধুমাত্র আরেকটি পরাজয় নয়, বরং বেশ কিছু দুর্বলতা সামনে নিয়ে এসেছে। টানা পাঁচ ম্যাচ জয়হীন থাকার পর এখন দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোই তাদের প্রধান লক্ষ্য। সামনে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে রক্ষণভাগকে সংগঠিত করে মেসিদের আক্রমণাত্মক শক্তিকে কাজে লাগাতে পারলে আবারও জয়ের পথে ফিরতে পারে দলটি।

মৌসুমের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ইন্টার মিয়ামির সামনে তাই বড় পরীক্ষা। মেসি ও ডি পলরা আক্রমণে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিচ্ছেন, কিন্তু দলীয় সাফল্যের জন্য রক্ষণভাগকেও একইভাবে দায়িত্ব নিতে হবে। নয়তো ব্যক্তিগত নৈপুণ্য থাকলেও পয়েন্ট হারানোর ধারাবাহিকতা থামানো কঠিন হবে।

টরন্টোর বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে হার সেই বাস্তবতাই আবার সামনে নিয়ে এসেছে। এখন দেখার বিষয়, পরের ম্যাচেই কি ঘুরে দাঁড়াতে পারে ইন্টার মিয়ামি, নাকি জয়হীনতার এই ধারা আরও দীর্ঘ হয়। সমর্থকদের প্রত্যাশা একটাই—মেসিদের দ্রুত জয়ের পথে ফিরে আসা।

মোঃ সারোয়ার আলম খান।

অনুসরণ করুন

অফিসের ঠিকানা: ১ম তলা, আব্দুল আলী প্লাজা, প্রগতি সরণি সড়ক, যমুনা ফিউচার পার্কের আউটগেটের বিপরীতে, ঢাকা-১২২৯।